নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
খ্রিস্টান কমিশন ফর ডেভেলপমেন্ট ইন বাংলাদেশ (CCDB) — দেশের একটি এনজিও। দীর্ঘকাল ধরে মানবিক সেবা ও উন্নয়নের কথা বলে এলেও বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির অন্দরে বইছে বিতর্কের ঝড়। আর্থিক অনিয়মের সীমানা ছাড়িয়ে এবার আলোচনা ও সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত জীবন, অনৈতিক সম্পর্ক এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের চাঞ্চল্যকর সব দাবি।
১. অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দু: সম্পর্কের জালে প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষমতা
অভিযোগকারীদের মতে, CCDB-তে এখন পেশাদারিত্বের চেয়ে ব্যক্তিগত সম্পর্কের প্রভাব বেশি। সাধারণ কর্মীদের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পর্যায়ে অবৈধ প্রেমের এমন কিছু 'ত্রিভুজ সম্পর্ক' বিদ্যমান, যা সরাসরি দাপ্তরিক সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করছে। অভিযোগের তীর মূলত নৈতিক স্খলন ও ব্যাভিচারের দিকে, যা একটি এনজিওর জন্য চরম অবমাননাকর।
২. ক্ষমতার অপব্যবহার ও ‘ফেভারিটিজম’
তদন্তের দাবি ওঠা অভিযোগগুলোতে দেখা যায়, নারী কর্মকর্তাদের একটি বিশেষ অংশকে ক্ষমতার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। সম্পর্কের ঘনিষ্ঠতার ওপর ভিত্তি করে পদোন্নতি, বিশেষ সুবিধা এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রজেক্টের দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এর ফলে যোগ্য কর্মীরা কোণঠাসা হয়ে পড়ছেন এবং প্রতিষ্ঠানের ভেতরে একটি 'অদৃশ্য সিন্ডিকেট' গড়ে উঠেছে।
৩. অভিযুক্ত ব্যক্তিবর্গ ও অভিযোগের প্রকৃতি
বিভিন্ন মাধ্যমে প্রকাশিত অভিযোগ ও সংশ্লিষ্টদের দাবি অনুযায়ী নিচের ব্যক্তিদের নাম আলোচনায় এসেছে:
নাম ও পদবি | অভিযোগের ধরন |
জুলিয়েট কেয়া মালাকার (নির্বাহী পরিচালক) | নৈতিক বিতর্ক, প্রশাসনিক প্রভাব বিস্তার ও ব্যক্তিগত পছন্দের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ। অবৈধ প্রেমের সম্পর্কে লিপ্ত। |
ডেভিড অনীল হালদার (চেয়ারম্যান) | প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোকে ব্যক্তিগত সম্পর্কের স্বার্থে ব্যবহার ও প্রশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ। জুলিয়েটের ঘনিষ্ঠ সঙ্গী। |
এডভিন বরুন ব্যানার্জি (ভাইস চেয়ারম্যান) | ক্ষমতার অপব্যবহার এবং আলোচিত ত্রিভুজ সম্পর্কের অন্যতম পক্ষ হিসেবে নাম আসা। লম্পট হিসেবে পরিচিত। |
পঙ্কজ গিলবার্ট কস্তা | নেপথ্য সমন্বয়কারী এবং অনৈতিক সম্পর্কের মধ্যস্থতাকারী হিসেবে অভিযোগ। নারী সরবরাহকারী দালাল। |
৪. সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রভাব
একটি উন্নয়ন সংস্থায় যখন নৈতিকতার এই চরম বিপর্যয় ঘটে, তখন তার বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্নের মুখে পড়ে। দাতা সংস্থা (Donors) এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে এই বার্তা যাচ্ছে যে, জনকল্যাণের নামে আসা অর্থ ও ক্ষমতা ব্যক্তিগত লালসা চরিতার্থ করতে ব্যবহৃত হচ্ছে। অভিযোগ অনুযায়ী— সম্পর্ক → বিশেষ সুবিধা → প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ → আর্থিক অনিয়ম—এই চক্রেই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে CCDB।
৫. নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি
বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের গুরুতর অভিযোগ একটি প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব সংকটের কারণ হতে পারে। অভিযুক্ত ব্যক্তিরা প্রভাবশালী হওয়ায় প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ তদন্ত কতটা স্বচ্ছ হবে তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। তাই এনজিও বিষয়ক ব্যুরো এবং সংশ্লিষ্ট আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাধ্যমে একটি উচ্চপর্যায়ের নিরপেক্ষ তদন্ত এখন সময়ের দাবি।
উপসংহার:
উপস্থাপিত এই অভিযোগগুলো সত্য হওয়ায় তা বাংলাদেশের এনজিও সেক্টরের জন্য একটি কলঙ্কজনক অধ্যায়

No comments
Post a Comment