LATEST POSTS

LIFESTYLE

Nature, Health, Fitness

WORLD

Sweden, Russia, France, India

About Me

Videos

ইসিটি চার্চ উদ্বোধন ও পালক সেমিনার: খ্রিষ্টান নেতৃত্ব সংকট ও সমাধান

 


ঢাকা, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫ (শনিবার):

আগামী শনিবার রাজধানীর মিরপুর-১০ এ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ইক্যুমেনিক্যাল খ্রিষ্টান ট্রাস্টের (ইসিটি) নতুন চার্চ উদ্বোধন ও পালক সেমিনার। “খ্রিষ্টান নেতৃত্বের সংকট ও সমাধান: পূরোহিত জীবনের বাস্তবতা” প্রতিপাদ্য নিয়ে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে খ্রিষ্টান সমাজের বিশিষ্ট নেতৃবৃন্দ, শিক্ষাবিদ ও গবেষকরা উপস্থিত থাকবেন।


অনুষ্ঠানের উদ্বোধন ও অতিথিবৃন্দ

অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করবেন পাস্টর রেভারেন্ড নথনেল সেতু মুন্সী, সেক্রেটারি, ঢাকা পাস্টর্স ফেলোশিপ।

প্রধান অতিথি হিসেবে থাকবেন রেভারেন্ড জেমস জীপু রায়, কান্ট্রি ডিরেক্টর, হাউস চার্চ অব বাংলাদেশ।

অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করবেন বিশপ শিমসন বাড়ৈ, চেয়ারম্যান, ইসিটি বোর্ড।


এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন অধ্যাপক নাসির উদ্দীন আহমদ, ইংরেজি বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ও জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সংগঠক।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন মেজর জ্ঞানেন্দ্র বাড়ৈ, সাবেক সিনিয়র পাস্টর, দি সালভেশন আর্মি অব বাংলাদেশ এবং ইসিটি বোর্ড সদস্য।


ইসিটির ঐতিহাসিক ভূমিকা

১৯৮৬ সালে প্রতিষ্ঠিত ইসিটি চার দশকেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশের খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের মধ্যে ঐক্য, সহাবস্থান ও ধর্মীয় সহনশীলতার প্রচার করে আসছে। ধর্মীয় শিক্ষা, গবেষণা এবং সমাজসেবার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি ইতিবাচক অবদান রেখে চলেছে।


২০২৪ সালে ইসিটি “জাতীয় জীবনে খ্রিষ্টানমণ্ডলীর অবদান” শীর্ষক পাঁচ বছর মেয়াদি গবেষণা প্রকল্প শুরু করে, যার বাজেট ধরা হয়েছে প্রায় ৭৫ লক্ষ টাকা। এই গবেষণায় খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের ঐতিহাসিক ভূমিকা ও জাতীয় জীবনে তাদের অবদান তুলে ধরা হবে।


সামাজিক ও শিক্ষামূলক উদ্যোগ

ইসিটি কেবল গবেষণা নয়, সামাজিক উন্নয়ন ও শিক্ষার ক্ষেত্রেও সক্রিয় ভূমিকা রাখছে। প্রতি মাসে দরিদ্র ও প্রান্তিক খ্রিষ্টান শিক্ষার্থীদের স্কলারশিপ প্রদান, নার্সিংয়ে অধ্যয়নরত নারী শিক্ষার্থীদের অগ্রাধিকারভিত্তিক সহায়তা, বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি কাউন্সেলিং, আইটি প্রশিক্ষণ এবং যৌতুক ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সচেতনতামূলক ক্যাম্প আয়োজন করে থাকে।


২০২৪ সালে নোয়াখালীতে এক হাজার পরিবারকে ত্রাণ বিতরণসহ নানা মানবিক কার্যক্রমও পরিচালনা করেছে সংগঠনটি।


ঐক্য ও সম্প্রীতির বার্তা

শনিবারের চার্চ উদ্বোধন ও পালক সেমিনার কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের নেতৃত্ব সংকট সমাধানে নতুন দিগন্ত উন্মোচনের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ইসিটি বিশ্বাস করে—বৈচিত্র্যের মধ্যেই ঐক্য এবং এই চেতনার মাধ্যমেই বাংলাদেশে একটি সহনশীল, প্রগতিশীল ও সমৃদ্ধ সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।


 ইসিটি’র ওয়েবসাইট: ectbd.org

ইসিটি’র উদ্যোগে মিরপুরে ফ্রি স্বাস্থ্য ক্যাম্প ১৬ আগস্ট



নিজস্ব প্রতিনিধি: সমাজসেবামূলক প্রতিষ্ঠান ইক্যুমেনিক্যাল খ্রিষ্টান ট্রাস্ট (ইসিটি) আগামী শনিবার, ১৬ আগস্ট(২০২৫) মিরপুরে বিনামূল্যে স্বাস্থ্য ক্যাম্প আয়োজন করতে যাচ্ছে। ক্যাম্পটি সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত ইসিটি অফিস প্রাঙ্গণে (ঠিকানা: ৮৮/১ সেনপাড়া পর্বতা, মিরপুর-১০, ঢাকা) অনুষ্ঠিত হবে। আয়োজকরা জানিয়েছেন, ক্যাম্পে সাধারণ স্বাস্থ্য পরীক্ষা, রক্তচাপ ও রক্তের সুগার পরীক্ষা, হৃদরোগ ও ডায়াবেটিস সংক্রান্ত পরামর্শ, শিশু ও মহিলাদের স্বাস্থ্যসেবা এবং বিনামূল্যে প্রেসক্রিপশন প্রদান করা হবে।

ক্যাম্পের উদ্বোধন করবেন ডা. এডুয়ার্ড পল্লব রোজারিও, মেডিকেল ডিরেক্টর ও কনসালটেন্ট (ফ্যামিলি মেডিসিন), ফর্মার; সেন্ট জন ভিয়ানী হাসপাতাল, ঢাকা। সেবা প্রদানে থাকবেন সাত(৭ জন) জন চিকিৎসক। তারা হলেন- ডা. গিলবার্ট সোহাগ মজুমদার – এমবিবিএস, বিসিএস (স্বাস্থ্য), সিপিডি, রেসিডেন্ট (কার্ডিওলজি), জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট, ঢাকা। ডা: মিথুন ঘোষ, এম বি বি এস (কে এম সি), মেডিকেল অফিসার,স্বাস্থ্য বাতায়ন, এফ সি পি এস পার্ট -১ (অর্থোপেডিক্স সার্জারী), এইচ,এম ও (বাংলাদেশ মেডিকেল ইউনিভার্সিটি -সাবেক পিজি), ডা. জয়া রোজমেরী রোজারিও – এমবিবিএস, মেডিকেল অফিসার, সেন্ট জন ভিয়ানী হাসপাতাল, ঢাকা। ডা. মেরী গ্লোরীয়া রোজারিও – এমবিবিএস, জেনারেল ফিজিশিয়ান। ডা. সম্প্রীতি পাল – এমবিবিএস, মেডিকেল অফিসার, স্বাস্থ্য বাতায়ন। ডা. ব্রাইন রোজারিও– এমবিবিএস, মেডিকেল অফিসার। ডা. মহার্ণব দফো – এমবিবিএস, মেডিকেল অফিসার, দি সালভেশন আর্মি অব বাংলাদেশ।

ইসিটি সেক্রেটারি অধ্যাপক ড. মিল্টন বিশ্বাস বলেন, ‘‘মানবকল্যাণে কাজ করা আমাদের অঙ্গীকারের অংশ। এই উদ্যোগের মাধ্যমে আমরা স্থানীয় বাসিন্দাদের সহজলভ্য ও বিনামূল্যের স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করতে চাই।’’ ইসিটি কর্তৃপক্ষ আরো জানিয়েছেন, প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে সমাজের অবহেলিত ও দরিদ্র মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে। এ ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে তারা স্থানীয় জনগণের স্বাস্থ্যসচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা সহজলভ্য করতে চান।

ইসিটি ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য মেজর জ্ঞানেন্দ্র বাড়ৈ ও শিখা বিশ্বাসের তত্ত্বাবধানে এবং বোর্ডের চেয়ারম্যান বিশপ শিমসন বাড়ৈ, বোর্ড সদস্য জন সুশান্ত বিশ্বাস ও ডেভিড আশীষ গমেজের সার্বিক পরিচালনায় স্বাস্থ্য ক্যাম্পটি সম্পন্ন হবে। এছাড়া ইসিটি স্কলারশিপ প্রাপ্ত ২০ জন ছাত্র-ছাত্রী ডাক্তারদের সহযোগিতা করবেন বলে জানা গেছে।

Discussion on “ECT Research Project: Social Relevance” by Ecumenical Christian Trust (ECT)


Dhaka, 24 May 2025 — The Ecumenical Christian Trust (ECT) is organizing a significant discussion event titled “ECT Research Project: Social Relevance” to be held on Saturday, 24 May 2025, at 10:00 AM at the ECT Conference Room, 88/8 Senpara Parbata, Mirpur-10, Dhaka-1216.

The event aims to explore the societal impact and necessity of ECT's ongoing and future research initiatives. Esteemed guests from various academic and religious backgrounds will share their insights on the importance of socially relevant research in contemporary society.

Chief Guest for the event will be Major Gnanendra Baroi of The Salvation Army, while the session will be chaired by Bishop Shimshon Baroi, representing the ECT Board.

Prominent Special Guests include:

Professor Nasir Uddin Ahmed, Department of English, Jagannath University

Father Topon D. Rozario, Former Chairman, Department of World Religions and Culture, University of Dhaka

David Ashis Gomez, Member, ECT Board

The Ecumenical Christian Trust invites academics, social workers, religious leaders, and interested members of the public to attend and engage in this meaningful dialogue.

ইসিটি’তে ‘‘পবিত্র বাইবেল ও আইনের দৃষ্টিতে নির্যাতিতদের করণীয়’’ শীর্ষক আলোচনা সভা


ইক্যুমেনিক্যাল খ্রিষ্টান ট্রাস্ট (ইসিটি)-এর আয়োজনে ১৪ এপ্রিল (২০২৫) পহেলা বৈশাখে  রাজধানীর মিরপুরে অনুষ্ঠিত হলো এক গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা সভা। ‘‘পবিত্র বাইবেল ও আইনের দৃষ্টিতে নির্যাতিতদের করণীয়’’ শীর্ষক এই অনুষ্ঠানে খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের অধিকার, সামাজিক অবস্থা এবং ধর্মীয় জীবনের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিশদ আলোচনা হয়।

আলোচনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশ্বধর্ম ও সংস্কৃতি বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান বিশিষ্ট গবেষক ফাদার তপন ডি রোজারিও। তিনি বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে খ্রিষ্টান পরিচয়ের কারণে যেসব বৈষম্য ও চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছেন, তা অকপটে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘‘বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশে আমার পরিচয় যেন অনেক সময় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। তবে বিশ্বাস আর অধ্যবসায়ের শক্তিতে আমি সবকিছুর মোকাবিলা করেছি।” তিনি ধর্মীয় সংহতি ও ন্যায়ের পথে চলার আহ্বান জানান।

মূল বক্তব্য প্রদান করেন অ্যাডভোকেট উত্তম হালদার। তিনি খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীদের বিয়ে, ডিভোর্স এবং উত্তরাধিকার আইন সংক্রান্ত বিভিন্ন দিক বিশ্লেষণ করে বলেন, ‘‘যথাযথ আইনগত সচেতনতা ও সম্প্রদায়ভিত্তিক শক্তিশালী অবস্থান ছাড়া এসব বিষয়ে ন্যায়বিচার পাওয়া কঠিন।”

আলোচনার পর তিনি এক প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নেন, যেখানে বিভিন্ন চার্চ ও মণ্ডলীর পালকরা খ্রিষ্টান পারিবারিক আইনের বিভিন্ন দিক নিয়ে প্রশ্ন করেন। অ্যাডভোকেট হালদার অত্যন্ত দক্ষতার সাথে তাদের প্রশ্নের উত্তর দেন এবং প্রাসঙ্গিক দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।

সভাপতির বক্তব্যে ইসিটির চেয়ারম্যান রেভারেন্ড ইম্মানুয়েল মল্লিক বলেন, ‘‘ইসিটিকে ঘিরে নানা ধরনের চক্রান্ত হচ্ছে, কিন্তু আমরা ভয় পাই না। আমরা ঈশ্বরের ওপর ভরসা করি। তিনি যেন আমাদের শক্তি দেন সত্য ও ন্যায়ের পথে অবিচল থাকার।”উল্লেখ্য, ইসিটি দখলের জন্য মিরপুরস্থ খ্রিষ্টানদের একটি অংশ হামলা-মামলার অনবরত হুমকি দিয়ে যাচ্ছে।

সভাপতি শেষে সকলের জন্য প্রার্থনা পরিচালনা করেন এবং খ্রিষ্টান সমাজের জন্য ঐক্য, সাহস ও কল্যাণ কামনা করেন।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন পাস্টর ইম্মানূয়েল রত্ন, মেজর নেলসল বিশ্বাস, ডালিয়া সরকার, স্বপন চৌধুরী, পাস্টর মুফাজ্জেল হোসেন এবং রঞ্জন রোজারিও (ডিরেক্টর এডমিন, ডিভাইন মার্সি হাসপাতাল)।

স্বাগত বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক ড. মিল্টন বিশ্বাস, সেক্রেটারি, ইসিটি। তিনি ইসিটি’র নিয়মিত কার্যক্রম বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন এবং ইসিটি পরিচালিত একটি সামাজিক গবেষণার অগ্রগতি আলোচনা করে উপস্থিত সকলের সহযোগিতা কামনা করেন। উপরন্তু নির্যাতিতদের পক্ষে এবং পাস্টরদের দাবিসমূহ তুলে ধরার জন্য একটি জাতীয় প্লাটফর্ম গড়ে তোলার কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে ইসিটি থেকে স্কলারশিপপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিভিন্ন চার্চ ও মণ্ডলীর শতাধিক বিশিষ্ট পালক, পুরোহিত ও খ্রিষ্টান নেতৃবৃন্দ এবং ইসিটি বোর্ডের সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

সকালে শুরু হওয়া আলোচনা সভা শেষে অংশগ্রহণকারীদের জন্য দুপুরের খাবারের আয়োজন করা হয়। আলোচনাসভাটি অনুষ্ঠিত হয় ইসিটি কনফারেন্স রুম, সেকশন ১০, মিরপুর, ঢাকায়। 

ইসিটি : ধর্মীয় ঐক্য, সামাজিক উন্নয়ন ও গবেষণার এক অনন্য যাত্রা

 


বাংলাদেশের খ্রিষ্টান সমাজের অন্যতম উল্লেখযোগ্য প্রতিষ্ঠান ইক্যুমেনিক্যাল খ্রিষ্টান ট্রাস্ট (ইসিটি)। ১৯৮৬ সালে ট্রাস্ট আইনের অধীনে প্রতিষ্ঠিত এই সংগঠন চার দশকেরও বেশি সময় ধরে ধর্মীয় সহনশীলতা, সমাজসেবা এবং শিক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের মধ্যে ঐক্য ও সহাবস্থান তৈরি করাই ছিল এই ট্রাস্টের মূল লক্ষ্য, যা সময়ের সাথে বহুমাত্রিক রূপ নিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি রাজধানী ঢাকার মিরপুর-১০ এ অবস্থিত।

গবেষণা ও জ্ঞানের পরিসর 

২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ‘ইসিটি’ শুরু করেছে এক যুগান্তকারী গবেষণা প্রকল্প—“জাতীয় জীবনে খ্রিষ্টানমণ্ডলীর অবদান”। পাঁচ বছর মেয়াদি এই গবেষণার বাজেট নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ৭৫ লক্ষ টাকা, যা সংগঠনের নিজস্ব তহবিল এবং দেশের বিভিন্ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানের সহায়তায় পরিচালিত হচ্ছে। এই গবেষণা শুধুমাত্র খ্রিষ্টানদের ঐতিহাসিক অবদান তুলে ধরবে না, বরং জাতীয় পরিচয়ে খ্রিষ্টানদের অবিচ্ছেদ্য অংশীদারিত্বের দিকগুলোও তুলে ধরবে।

সাংগঠনিক কাঠামো ও নেতৃত্ব 

‘ইসিটি’র বর্তমান কার্যনির্বাহী কমিটিতে রয়েছেন শিক্ষাবিদ, ধর্মীয় নেতা এবং সমাজকর্মী। নেতৃত্বে আছেন বোর্ড চেয়ারম্যান রেভারেন্ড ইম্মানুয়েল মল্লিক, সেক্রেটারি অধ্যাপক ড. মিল্টন বিশ্বাস, এবং ট্রেজারার জন সুশান্ত বিশ্বাস। কমিটির অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন বিশপ সাইমন বাড়ৈ, তন্দ্রা রাণী সরকার এবং মোহাম্মদ আফিজুর রহমান। এই বহুমাত্রিক নেতৃত্বই ইসিটিকে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, দায়িত্বশীল ও প্রগতিশীল প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেছে।


সামাজিক কর্মকাণ্ড ও সম্প্রসারণ

‘ইসিটি’ কেবল গবেষণা নয়, সামাজিক উন্নয়নেও সক্রিয়। স্কলারশিপ ফান্ডের মাধ্যমে প্রতি মাসে বিশ(২০) জন দরিদ্র ও প্রান্তিক খ্রিষ্টান শিক্ষার্থীকে সহায়তা প্রদান করা হয়, যার মধ্যে নার্সিংয়ে অধ্যয়নরত নারী শিক্ষার্থীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিচ্ছুদের জন্য কাউন্সেলিং সেশন, আদিবাসী শিক্ষার্থীদের নিয়ে গ্রুপ ওয়ার্কিং এবং ধর্মীয় সচেতনতামূলক সেমিনারের আয়োজন নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ।

২০২৩-২৫ সময়কালে সংগঠনের উল্লেখযোগ্য কিছু কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে:

●       সেমিনার ও আলোচনা সভা : প্রায় আড়াই বছরে অনুষ্ঠিত হয়েছে দশের অধিক সেমিনার ও আলোচনা সভা। যার মধ্যে "শান্তি, সম্প্রীতি ও সমৃদ্ধির বাংলাদেশ", "বিচারহীনতা" এবং "নির্যাতিতদের করণীয়"—এই বিষয়ে আয়োজন বিশেষভাবে গুরুত্ববহ। খ্রিষ্টান পালক-পুরোহিতদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্যও ‘ইসিটি’ নিয়মিত সেমিনারের আয়োজন করে থাকে। তবে বর্তমান যুবসমাজের উন্নয়নই তাদের মূল লক্ষ্য।

●       ত্রাণ কার্যক্রম: ২০২৪ সালের আগস্টে নোয়াখালীতে এক হাজার পরিবারকে ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে।

●       প্রযুক্তি শিক্ষা: কম্পিউটার ও আইটি প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালু রয়েছে গরিব খ্রিষ্টান যুবসমাজের জন্য।

●       সামাজিক সমস্যা মোকাবেলায় ক্যাম্প: যৌতুক ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ এবং স্বাস্থ্যবিষয়ক সচেতনতা কর্মসূচি চলমান।

●       ভবিষ্যত কর্মসূচি : গরিব ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্য ‘ইসিটি’ ভবিষ্যতে কৃষিভিত্তিক কর্মসূচি গ্রহণ করবে বলে জানা গেছে। নিম্নবর্গ মানুষের অর্থনৈতিক উন্নয়নে বেশ কিছু পরিকল্পনা গ্রহণের সিদ্ধান্ত রয়েছে। এসব সেবামূলক কাজে সমাজের উচ্চবর্গ জনগোষ্ঠীর সক্রিয় অংশগ্রহণও প্রত্যাশা করে সংগঠনটি। ‘খ্রিষ্টান মণ্ডলীর ইতিহাস’  এবং ‘বাংলাদেশের পালক-পুরোহিতদের জীবনী’ শিরোনামে একাধিক প্রকাশনার পরিকল্পনাও রয়েছে সংগঠনটির।

যোগাযোগ ও প্রচারণা:

প্রযুক্তি যুগে সংগঠনটির উপস্থিতিও সুসংহত। ‘ইসিটি’র ওয়েবসাইট (https://ectbd.org) এবং ফেসবুক পেজ নিয়মিত হালনাগাদ করা হয়। ২০২৪ সালে ‘ইসিটি নিউজ’ নামে একটি নিয়মিত প্রকাশনাও চালু করেছে, যা তাদের কার্যক্রম ও দৃষ্টিভঙ্গি দেশের বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে দিচ্ছে।

আন্তঃধর্মীয় সংলাপ ও সংস্কৃতি চর্চা 

‘ইসিটি’ আন্তঃধর্মীয় সংলাপেও অগ্রণী ভূমিকা রাখছে। খ্রিষ্টানদের পাশাপাশি অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের সাথে পারস্পরিক বোঝাপড়া বৃদ্ধির জন্য সেমিনার, ওয়ার্কশপ ও সাংস্কৃতিক আয়োজন করে থাকে। খ্রিষ্টীয় ঐতিহ্যকে লালন করে এমন নাটক, সঙ্গীতানুষ্ঠান ও সাহিত্যসভাও তাদের নিয়মিত কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত।

একটি সর্বজনীন চেতনার প্রতীক

‘ইসিটি’ এমন একটি প্রতিষ্ঠান যা খ্রিষ্টানদের মধ্যে বিভাজনের দেয়াল ভেঙে ঐক্যের ভিত্তি গড়ে তুলছে। তারা বিশ্বাস করে—বৈচিত্র্যের মধ্যেই ঐক্য এবং এই মূল্যবোধই বাংলাদেশি সংস্কৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে একটি সহনশীল, প্রগতিশীল ও সমৃদ্ধ সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখছে।

আজকের বাংলাদেশে যেখানে ধর্মীয় বিভাজন ও অসহিষ্ণুতার শঙ্কা রয়েছে, সেখানে ‘ইসিটি’ এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এটি কেবল একটি খ্রিষ্টান ট্রাস্ট নয়—একটি আন্তঃধর্মীয় সম্প্রীতির প্ল্যাটফর্ম, একটি সামাজিক অঙ্গীকারের প্রতীক এবং একটি গবেষণা-নির্ভর উন্নয়ন চিন্তার বাহক। ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে বলা যায়, ‘ইসিটি’ বাংলাদেশের সমাজ কাঠামোতে ইতিবাচক পরিবর্তনের অন্যতম চালিকাশক্তি হয়ে উঠছে।





ইক্যুমেনিক্যাল খ্রিস্টান ট্রাস্ট (ইসিটি) ও সেন্ট থমাস চার্চ এর যৌথ সেমিনার নিরাপত্তা, ধর্মীয় সম্প্রীতি ও জাতীয় ঐক্যের প্রয়োজনীয়তা

 


সবার ধর্ম স্বাধীনভাবে পালনের নিশ্চয়তাই সম্প্রীতি

রাজধানীর মগবাজারে সেন্ট থমাস চার্চে ‘নিরাপত্তা, ধর্মীয় সম্প্রীতি ও জাতীয় ঐক্যের প্রয়োজনীয়তা’ শীর্ষক এক সেমিনার আয়োজিত হয়েছে।

শুক্রবার (১৭ জানুয়ারি) ইক‍্যুমেনিক্যাল খ্রিস্টান ট্রাস্ট (ইসিটি) এবং সেন্ট থমাস চার্চের যৌথ উদ্যোগে এই সেমিনারের আয়োজন করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন ইক‍্যুমেনিক্যাল খ্রিস্টান ট্রাস্টের (ইসিটি) চেয়ারম্যান রেভা. ইম্মানুয়েল মল্লিক। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সেন্ট থমাস চার্চের সিনিয়র ব‍্যক্তিত্ব জর্জ বিনিময় রায়।

সেমিনারের শুরুতে মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মিল্টন বিশ্বাস (সেক্রেটারি, ইক‍্যুমেনিকেল খ্রিস্টান ট্রাস্ট)।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সেন্ট থমাস চার্চের সিনিয়র ব্যক্তিত্ব জর্জ বিনিময় রায় বলেন, যিনি অন্য ধর্ম পালন করেন তিনি যেন স্বাধীনভাবে পালন করতে পারেন সেটা সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে। ধর্মীয় সম্প্রীতি হলো আপনি যেন আপনার ধর্মটা স্বাধীনভাবে পালন করতে পারেন। এক ধর্ম যেন অন্য ধর্মের উপর হস্তক্ষেপ না করে। এটাই আমাদের মূল উদ্দেশ্য। আর এটাকে পূর্ণাঙ্গ রূপ দিতে পারেন সরকার। কোনো ধর্মকে বেশি গুরুত্ব দিলে ধর্মীয় সম্প্রীতি নষ্ট হয়ে যায়। 

জাতীয় ঐক্যই জাতির মেরুদণ্ড উল্লেখ করে জর্জ বিনিময় রায় বলেন, একটা জাতির মধ্যে ঐক্য থাকলে তারা যে কোনো লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারে। জাতিকে এগিয়ে নিতে হলে একতা ছাড়া কোনো উপায় নেই। আজকে আমরা যে সভ্যতার উপর দাঁড়িয়ে আছি, সেটা এনে দিয়েছে একতা। আমরা যদি এক থাকি আমদের নিরাপত্তা থাকবে। সুতরাং, আমাদের মধ্যে একতা সর্বোচ্চ গুরুত্বপূর্ণ। এখানে আমাদের কর্তব্য হলো, নিরাপত্তা, ধর্মীয় সম্প্রীতি ও ঐক্য নিশ্চিতে নিজ নিজ জায়গা থেকে আমাদের অবদান রাখা।


অনুষ্ঠানে উপস্থিত সবাইকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে সভাপতির বক্তব্যে রেভারেন্ড ইম্মানুয়েল মল্লিক বলেন, সম্প্রীতি ও ঐক্য রক্ষায় আমাদের সকলের পাশাপাশি মিডিয়ারও গুরুত্ব রয়েছে। আমরা বিগত আন্দোলনে মিডিয়ার ভূমিকা দেখেছি।

সেমিনারে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক নাসির উদ্দীন আহমেদ, বিশপ সাইমন বাড়ৈ, সদস্য, ইসিটি বোর্ড, জন সুশান্ত বিশ্বাস, ট্রেজারার, ইক‍্যুমেনিকেল খ্রিষ্টান ট্রাষ্ট (ইসিটি) প্রমুখ।

বিশেষ অতিথি অধ্যাপক নাসির উদ্দীন আহমেদ বলেন, কোনো কোনো জায়গায় সেনাবাহিনীকে ঐক্যের প্রতীক বলা হচ্ছে, কোথাও ধর্মকে বলা হচ্ছে। আমি বলছি সেনাবাহিনী হচ্ছে নিরপেক্ষ একটা শক্তি। কেউ যদি নিরপেক্ষ থাকে সেখানে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ। আমাদের ছাত্রদেরকে সঠিকভাবে পরিচালনা করতে পারলে তারাও ঐক্যের প্রতীক হতে পারে। সেটা তারা বিগত আন্দোলনে দেখিয়ে দিয়েছে। বাস্তবিক অর্থে ঐক্য ঠিক করতে হলে সামাজিক ন্যায়বিচার অত্যন্ত জরুরি। আগামীর পৃথিবীকে সুন্দরভাবে সজাতে হলে, সামাজিক ও ধর্মীয় সম্প্রীতিকে রক্ষা করতে হলে জাতীয় ঐক্য জরুরি।

৫ আগষ্ট পূর্ববর্তী ও পরবর্তী জাতীয় ঐক্যের প্রতীক বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর দূরদর্শী ও বলিষ্ঠ সিদ্ধান্ত দেশকে রক্ষা করেছে উল্লেখ করে ইসিটি ট্রেজারার জন সুশান্ত বিশ্বাস বলেন, দেশ দাঁড়িয়ে আছে তিনটি পিলারের ওপর। সেটা হলো জনগণ, সরকার ও দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনী। সেনাবাহিনীর সঠিক সিদ্ধান্ত আমাদের দেশকে পথ হারাতে দেয়নি। প্রয়োজনীয় সংস্কারের পরই নির্বাচন হওয়া উচিত। তাড়াহুড়ো করে আমরা দেশকে আরেকটি ফ্যাসিস্ট এর হাতে তুলে দিতে চাই না।

মূল প্রবন্ধে প্রফেসর বিশ্বাস বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট-পরবর্তী ‘নতুন বাংলাদেশ’ নিরাপত্তা ইস্যুতে নতুন পথের অন্বেষী হয়ে ওঠে। দেশজুড়ে সেনাবাহিনীর ইতিবাচক তৎপরতা অভিনন্দিত হয়। কিন্তু সেসময় থেকে দেশের কোনো কোনো স্থানে হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান তথা অমুসলীম জনগোষ্ঠীর উপর যে চাপ তৈরি হয় তাতে ধর্মীয় সম্প্রীতির প্রসঙ্গটি সামনে আসে। তিনি আরও বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা নোবেল লরিয়েট অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে এক ধর্ম সম্প্রদায়ের সঙ্গে অন্য সম্প্রদায়ের সৌহার্দ্য অক্ষুণ্ন রাখার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

সেমিনারে সাংবাদিক সুজাউল ইসলাম বলেন, ৫ আগষ্ট পরবর্তী সময়ে ধর্মীয় সংখ্যালঘু নামে একটা বিষয় নিয়ে ষড়যন্ত্র হচ্ছে। কিন্তু বাস্তবে বাংলাদেশের সংখ্যালঘু বলতে কিছু নেই বলে মনে করেন তিনি।

এছাড়া, দৈনিক খবরের কাগজের জ্যেষ্ঠ সহ-সম্পাদক শাহাদাত হোসেন বলেন, দীর্ঘ সময় অন্যায় অত্যাচার জুলুমের শিকার একটি জাতিকে ছাত্র-জনতা এক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে রক্ষা করেছে। এখানে জাতীয় ঐক্যের গুরুত্ব অনুধাবন করা যায়। পরাজিত শক্তি ঐক্য বিনষ্ট করে জাতিকে বিভ্রান্ত করার জন্য এখন জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে চেষ্টা করছে। তারা বিভিন্নভাবে ধর্মীয় সম্প্রীতি বিনষ্ট করার মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার সবরকম চেষ্টা করছে।

Politics

Politics

Business

Business

Science

Science

Opinion

Opinion

Culture

Culture

ASIA

ASIA

Startup

startup

History

History
© all rights reserved
made with by templateszoo