সামাজিক ন্যায়বিচার ও স্বচ্ছতার কথা বলে আসা বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা Christian Commission for Development in Bangladesh (সিসিডিবি)–এর বিরুদ্ধে এবার উঠেছে প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগ। সরকারি কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক অভিযোগে দাবি করা হয়েছে, সংস্থাটির বাস্তবায়িত রিসেটেলমেন্ট অ্যাকশন প্ল্যান (RAP/RP) প্রকল্পগুলোতে দুর্নীতি ছিল পদ্ধতিগত এবং এর দায় এড়াতে পারে না সিসিডিবির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী পর্ষদ—গভর্নিং কমিশন।
মাঠ নয়, অভিযোগের কেন্দ্র নীতিনির্ধারণী পর্যায়
অভিযোগে বলা হয়েছে, দাতা সংস্থার অর্থায়নে পরিচালিত সড়ক ও অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের দায়িত্বশীল কাজ (RAP/RP) বাস্তবায়নের সময় অনিয়ম কেবল মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। বরং গভর্নিং কমিশনের সিদ্ধান্ত ও নিষ্ক্রিয়তার মাধ্যমে এই দুর্নীতি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেয়েছে।
গভর্নিং কমিশনের দায়িত্ব ছিল নৈতিক কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত করা, স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া তদারকি এবং অভ্যন্তরীণ জবাবদিহিতা বজায় রাখা। অভিযোগ অনুযায়ী, এই দায়িত্বগুলো পালন না করে কমিশন সচেতনভাবেই দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দিয়েছে।
যাদের নাম এসেছে অভিযোগে
অভিযোগপত্রে গভর্নিং কমিশনের কয়েকজন সদস্যের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, যাদের সিদ্ধান্ত বা নীরবতা দুর্নীতিকে দীর্ঘস্থায়ী করেছে বলে দাবি করা হয়েছে। তারা হলেন—
-
David Anil Halder
-
Elvin Barun Banerjee
-
Juliet Keya Malakar
তবে অভিযোগে স্পষ্ট করা হয়েছে, এটি কোনো একক ব্যক্তির বিচ্যুতি নয়; বরং গভর্নিং কমিশনের যৌথ প্রাতিষ্ঠানিক ব্যর্থতার ফল।
দুর্নীতির ধরন কী?
তদন্ত প্রতিবেদনে গভর্নিং কমিশনের বিরুদ্ধে তিন ধরনের অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রথমত, প্রশাসনিক সহায়তার মাধ্যমে দুর্নীতিকে টিকিয়ে রাখা—ভুয়া সনদধারী কর্মী নিয়োগ, ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা (EP List) জালিয়াতির তথ্য থাকার পরও প্রকল্প চালিয়ে যাওয়ার অনুমোদন দেওয়া।
দ্বিতীয়ত, প্রাতিষ্ঠানিক নীরবতা—যাকে অভিযোগে “দুর্নীতির মৌন সম্মতি” বলা হয়েছে। এর ফলে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা দায়মুক্তি পেয়েছেন।
তৃতীয়ত, যৌথ প্রাতিষ্ঠানিক সম্পৃক্ততা—RAP/RP সংক্রান্ত বড় চুক্তি সিসিডিবির হাতেই রাখার স্বার্থে একটি দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যবস্থাকে সুরক্ষা দেওয়া।
কেন গভর্নিং কমিশনকে দায়ী করা হচ্ছে
অভিযোগে বলা হয়েছে, দুর্নীতি কেবল সরাসরি অর্থ লেনদেনেই সীমাবদ্ধ নয়। নীতিগত ও প্রশাসনিক অবস্থান থেকে দুর্নীতির সুযোগ তৈরি করাও দুর্নীতির অংশ। প্রমাণ থাকার পরও ব্যবস্থা না নেওয়া, অসাধু কর্মীদের রক্ষা করা এবং জবাবদিহিতার কাঠামো অকার্যকর রাখা—এই বিষয়গুলো গভর্নিং কমিশনকে দুর্নীতির অংশীদার হিসেবে দাঁড় করায়।
সম্ভাব্য পরিণতি
যদি অভিযোগগুলো তদন্তে প্রমাণিত হয়, তবে সিসিডিবিকে বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়তে হতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে দাতা সংস্থার আস্থা হারানো, বিশ্বব্যাংক বা এডিবির মতো আন্তর্জাতিক দাতাদের কালো তালিকাভুক্তির আশঙ্কা, আইনি ব্যবস্থা এবং দীর্ঘদিনের অর্জিত সুনাম ক্ষুণ্ন হওয়া।
তদন্তের দাবি
প্রতিবেদনটিতে একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে Anti-Corruption Commission (দুদক)–এর মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক অনুসন্ধান ও আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে এখনো সিসিডিবি বা অভিযোগে নাম থাকা ব্যক্তিদের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তদন্ত শুরু হলে এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর প্রতিক্রিয়া এলে সংবাদটি হালনাগাদ করা হবে।

No comments
Post a Comment