এমনকি পরবর্তীকালের সাহিত্য নিদর্শন ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন’, ‘শূন্যপুরাণ’, ‘রামায়ণ’, ‘মহাভারত’, ‘ধর্মমঙ্গল’, ‘মনসামঙ্গল’, ‘চৈতন্যমঙ্গল’, ‘চৈতন্যভাগবত’ থেকে শুরু করে গুপীচন্দ্রের ‘সন্ন্যাস’, ‘মক্তুল হোসেন’, ‘জঙ্গনামা’, ‘পদ্মাবতী’, ‘লাইলী মজনু’, ‘ইউসুফ জোলেখা’, ‘ছয়ফুলমুলুক-বদিউজ্জামাল’, ‘অন্নদামঙ্গল’, ‘গাজীকালু-চম্পাবতী’ প্রভৃতির হস্তলিখিত পাণ্ডুলিপিসমূহ পুথি সাহিত্যের অমৃত ভাণ্ডার হিসেবে গৃহীত, চর্চিত ও আলোচিত হয়ে আসছে।
আগে অক্ষরজ্ঞানের বিদ্যাশিক্ষার প্রসার কম থাকায় এবং কাগজের সংকট থাকায় হস্তলিখিত পুথি বা পাণ্ডুলিপি সাধারণত একজন অভিজ্ঞ পুথি পাঠক উচ্চৈঃস্বরে নানা সুর-ছন্দে আবৃত্তি বা গান আকারে উপস্থাপন করতেন, অন্যরা দলবদ্ধ হয়ে শুনতেন। পরবর্তীকালে মুদ্রণশিল্পের বিকাশে এবং কাগজের কল প্রতিষ্ঠার ফলে হস্তলিখিত পাণ্ডুলিপির পরিবর্তে মুদ্রিত পুথির প্রচলন ঘটে। মুদ্রিত পুথির প্রচলনে বহু কবির আবির্ভাব ঘটে।
তাঁরা প্রথম পর্বে চিরায়ত পুথিকাব্যের প্রাচীন আদর্শের অনুসরণে সহজবোধ্য কাব্য, পাঁচালি প্রকাশ শুরু করেন, পরবর্তীকালে প্রাচীন আদর্শের বাইরে গিয়ে সমসাময়িক কালের নতুন নতুন বিষয় নিয়ে পুথিকাব্য রচনা ও প্রকাশনা শুরু করেন।
বাংলাদেশের পুথি সংস্কৃতির চর্চায় লিপি ও ভাষার ব্যবহারের কথাও উল্লেখ করতে হয়। বাংলাদেশে প্রাপ্ত হস্তলিখিত ও মুদ্রিত পুথির মধ্যে বাংলা লিপির পাশাপাশি আরবি ও ফারসি লিপির ব্যবহার প্রত্যক্ষ করা যায়। পাশাপাশি সিলেটি নাগরী লিপিতেও কিছু পুথির সন্ধান পাওয়া যায়।
বাংলাদেশে সংস্কৃত ভাষার যেসব পুথি পাওয়া যায় তার বেশির ভাগেই বাংলা লিপির ব্যবহার দৃষ্ট হয়। অন্যদিকে মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের পুথিকাব্যের ধারায় আরবি হরফে বাংলা পুথি লিপিবদ্ধ করার ঐতিহ্য প্রত্যক্ষ করা গেছে। বাংলা একাডেমির পুথি সংগ্রহশালা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগারের পাণ্ডুলিপি শাখা, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগারের পাণ্ডুলিপি শাখার পাশাপাশি অনেকের ব্যক্তিগত সংগ্রহে বেশ কিছু আরবি হরফে লিপিবদ্ধ বাংলা পুথি সংরক্ষিত রয়েছে। এ ছাড়া পার্বত্য অঞ্চলের বিভিন্ন ধরনের বৌদ্ধ জনগোষ্ঠীর মধ্যে বার্মিজ লিপির কিছু প্রাচীন পুথির সন্ধান পাওয়া যায়। ভাষাজ্ঞানের সীমাবদ্ধতার কারণে এসব পুথির পাঠ এখনো সম্ভব হয়নি।
বাংলাদেশের বাংলা, সংস্কৃত, আরবি, ফারসি ভাষার পুথির সংগ্রহের মধ্যে আরেকটি বৈচিত্র্য প্রত্যক্ষ চিত্রিত পুথিতে। চিত্রিত পুথির মধ্যেও নানা ধরনের প্রকরণ লভ্য। একদিকে চিত্রবন্ধ কাব্য রয়েছে, অন্যদিকে আখ্যানের কাহিনি বা বিষয়বস্তু অনুযায়ী পুথি পাওয়া যায়। বাংলাদেশে প্রাপ্ত চিত্রিত পুথির মধ্যে সবচেয়ে বিখ্যাত পাণ্ডুলিপি রাজশাহীর বরেন্দ্র রিসার্চ মিউজিয়ামে সংরক্ষিত। পুথিটির নাম ‘অষ্টসাহস্রিকা প্রজ্ঞাপারমিতা’, এটি মূলত একাদশ-দ্বাদশ শতকের তালপাতা পুথি। বৌদ্ধ ধর্মের একটি মৌলিক গ্রন্থ হিসেবে এর গুরুত্বের কথা বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত। আট হাজার লাইনে লিপিবদ্ধ এই ‘অষ্টসাহস্রিকা প্রজ্ঞাপারমিতা’য় প্রাচীন বাংলার পাল যুগের চিত্রকলা লভ্য। এতে ১৯১টি ফোলিও বা পাতা রয়েছে। এই পুথির চিত্রগুলো পাল আমলের শিল্পকলা, ছন্দোময় রেখা এবং রঙের চমৎকার ব্যবহার রয়েছে। কুমিল্লার রামমালা গ্রন্থাগারের পুথি সংগ্রহশালায় কিছু দুর্লভ চিত্রবন্ধ কাব্য সংরক্ষিত। এ ছাড়া চট্টগ্রামের আবদুস সাত্তার চৌধুরী পুথি সংগ্রহশালায় পবিত্র কোরআনের কিছু বর্ণিল হস্তলিখিত পুথি সংরক্ষিত রয়েছে।
প্রাথমিক পর্যায়ে বাংলাদেশের হস্তলিখিত পুথি সাধারণত তালপাতা, বিভিন্ন ধরনের গাছের ছাল-বাকলে লিপিবদ্ধ হতো। কিছু কিছু ক্ষেত্রে কাঠের ফলকে পুথি লিপিবদ্ধ করার ঐতিহ্য দৃষ্ট হয়েছে। পরবর্তীকালে হস্তনির্মিত তুলোট কাগজে পুথি লিপিবদ্ধ করার ঐতিহ্য প্রচলিত হয়। একই সঙ্গে উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, অপেক্ষাকৃত আধুনিক কালে মেশিনের তৈরি কাগজের ওপরেও পুথি লিপিবদ্ধ করার ঐতিহ্য চালু হয়। বাংলাদেশের রাঙামাটি জেলার বিভিন্ন বৌদ্ধ মন্দিরে পি নামের এক ধরনের গাছের পাতার ওপর খোদাই করা কিছু দুর্লভ পুথি সংরক্ষিত রয়েছে।
বাংলাদেশে প্রাপ্ত হস্তলিখিত ও মুদ্রিত অনেক পুথিতে একই সঙ্গে বহু ভাষার শব্দের ব্যবহার প্রত্যক্ষ করা যায়। সে কারণে বহু ভাষার জ্ঞান বা পাঠ অভিজ্ঞতা না থাকলে পুথির রসাস্বাদন অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে। আর যদি প্রাচীন ও মধ্যযুগের হস্তলিখিত পুথির কথা বলা হয়, তাহলে তার পাঠোদ্ধার আরো কঠিন। কারণ প্রাচীন ও মধ্যযুগের পুথি বা পাণ্ডুলিপিতে লিপির নানা বৈচিত্র্য প্রত্যক্ষ করা যায়, পাশাপাশি বানানরীতিতেও নানা ধরনের
রূপ-রূপান্তর লভ্য, এমনকি প্রাচীন ও মধ্যযুগের পুথিতে আধুনিক কালের মতো সব অক্ষর বা হরফের ব্যবহার ছিল না। বিশেষ করে আধুনিক কালের লিপিতে যেমন ‘শ’, ‘স’, ‘ষ’—এই তিনটি হরফের একসঙ্গে ব্যবহার দুর্লভ, অনেক ক্ষেত্রে একটি ‘স’ বা ‘ষ’ ব্যবহার করেই ‘শ’-যুক্ত শব্দের বানান প্রয়োগ করা হয়েছে, ‘স’ বা ‘ষ’-যুক্ত শব্দের বানানের ক্ষেত্রেও এ ধরনের প্রয়োগ লক্ষ করা যায়। একই রূপ ‘য়’ এবং ‘য’-এর রূপভেদ নির্ণয় করা কঠিন, অনেক সময় আবার ‘অ’, ‘উ’ বা ‘য়’ হরফের পরিবর্তে মধ্যযুগের পুথিতে ‘য’ ব্যবহৃত হয়েছে। হস্তলিখিত পুথিতে কালে কালে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন দেখা যায় ‘র’ হরফের ব্যবহারে। প্রথম পর্যায়ে ‘ব’ হরফের আকৃতিতে নিচের দিকে একটি রেখা টেনে ‘র’ হরফটি লেখা হতো; পরে পেটকাটা ‘ব’-কে (বর্তমানে অহমিয়া হরফের ‘র’ আকৃতি) ‘র’ হরফ হিসেবে ব্যবহার করা হতো; তারও পরবর্তীকালে ‘ব’ হরফের ডান দিকে মাঝামাঝি অবস্থানে ছোট একটি রেখা টেনে ‘র’ লিপিবদ্ধ হতো। এক পর্যায়ে এই রূপের সঙ্গে নিচের দিকে বিন্দু দেওয়া হতো কোনো কোনো পাণ্ডুলিপিতে। পরবর্তীকালে ‘র’ হরফটি আধুনিক রূপ পায়। এই রূপ গ্রহণের জন্য ‘র’ হরফটিকে অন্তত চার শ বছর অতিক্রম করতে হয়েছে। যুক্তাক্ষরের রূপ নিয়েও প্রাচীন ও মধ্যযুগের কাব্য-পাঁচালিসহ অন্যান্য পুথিতে নানা বৈচিত্র্য প্রত্যক্ষ করা যায়। এ ছাড়া রেফের ব্যবহার তো আরো রহস্যময়। অনেক সময় রেফ চিহ্নের ব্যবহার আধুনিক কালের বানানের মতো ‘র’-এর বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত হয়, কিন্তু বেশির ভাগ সময় রেফ চিহ্নটি ‘র’-এর বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত হয় না। সাধারণত নির্দিষ্ট হরফের উচ্চারণে শক্তি বা চাপ অথবা হরফটির দ্বিত্ব প্রয়োগ করার নির্দেশনারূপে পুথিতে রেফ চিহ্নের প্রয়োগ করা হয়েছে। এসব কারণে প্রাচীন ও মধ্যযুগের হস্তলিখিত পুথির পাঠোদ্ধার অনেকটা বিচিত্র লিপি তথা হরফের গোপন ও সংকেতময় রহস্যঘেরা ভুবনের ভেতর থেকে নতুন নতুন ভূখণ্ড, সাগর-মহাসাগর বা দিগন্ত আবিষ্কারের মতো দুর্ভেদ্য সাধনার কাজ, তার পরও এই আবিষ্কার একজন রসিকের জন্য প্রকৃতপক্ষেই নির্মল আনন্দময় ব্যাপার। আসলে সাংকেতিক লিপির ভেতর থেকে যখন একটি শব্দের প্রকৃত রূপ আবিষ্কার ও উচ্চারণ সম্ভব হয়; এবং শব্দের পর শব্দ বুননের মালায় গ্রথিত একটি পঙিক্তর অর্থপূর্ণ অবয়ব চোখের সামনে উন্মোচিত হয়, তখন যে আনন্দের উদ্ভাস পাঠকের চিত্তে ঝলক দিয়ে ওঠে তার কোনো তুলনা হয় কি! এ কথার প্রমাণস্বরূপ বাংলা একাডেমিতে সংরক্ষিত আলাওলের ‘ছয়ফুলমুলুক-বদিয়ঃর্জামাল’ (মূল হস্তলিখিত পুথির বানানরীতি অনুসরণে এই রূপ দৃষ্ট হয়, মূলত ‘ছয়ফুলমুলুক-বদিউজ্জামাল’ বোঝাতে এই রূপ ব্যবহার করা হয়েছে)-এর একটি হস্তলিখিত পুথির কয়েকটি পঙিক্তর উদ্ধৃতি দেওয়া যেতে পারে। হস্তলিখিত পুথির বানানরীতি অনুসরণে উদ্ধৃতিটি হলো : “ম্বর্খের চরিত্র এই নিন্দা করে য়তি। পদেক রচিতে পুনি নাইক সকতি\ ভাব-রসে ছন্দ-অর্থ গনমি অক্ষর। উক্তি-ছন্দ না বুজিয়া দোসএ বর্ব্বর\ কবি-সক্তি বিধাতার রত্নের ভাণ্ডার। সকলেরে সমান না দিছে করতার\ কেহ কহে কেহ বুজে কেহ অল্প বুজে। ম্বর্ক্ষের স্থানে মাত্র না বুজিয়া যুঝে\ অগ্রগামি কবি সবে কহিছে জে মত। অখনের কবি না পারএ তেন মত\ সপ্বর্ণ্য ভাণ্ডার সবে লোটীয়া নিল আগে। অনেক বিচারি কিছু পাইল্বম সেস-ভাগে\ প্রভুর ভাণ্ডার জেন রত্নাকর সিন্ধু। ভরএ অসক্ষ নদি না টুটএ বিন্দু\” এখানে লিপিকারের বানানরীতি অনুযায়ী পুথির পাঠোদ্ধার করা হয়েছে। মধ্যযুগের বাংলা পুথির লিপি সম্পর্কে জানা না থাকলে এ ধরনের পুথির পাঠোদ্ধার করা কঠিন। লক্ষণীয় বিষয়, এখানে ‘মুর্খ’ লিখতে ‘ম্বর্খ’ ও ‘ম্বর্ক্ষ’ লিপিবদ্ধ হয়েছে, এর অর্থ লিপিতে ‘উ’-কারের পরিবর্তে নিচের দিকে ‘ব’ বা ‘ম’ হরফটি বিশেষভাবে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। ‘শক্তি’ লিখতে ‘সক্তি’, ‘শেষ’ লিখতে ‘সেস’, ‘ভরে’ লিখতে ‘ভরএ’, ‘অসংখ্য’ লিখতে ‘অসক্ষ’, ‘টুটে’ লিখতে ‘টুটএ’ প্রভৃতি লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। এ ছাড়া নানা ব্যতিক্রম লভ্য। এই ব্যতিক্রম সত্ত্বেও রসিকরা পুথির রসাস্বাদনে সক্ষম ছিলেন, এখনো কেউ কেউ আছেন।
খাগড়াছড়ির বৌদ্ধ মন্দিরে রক্ষিত নাম-না-জানা বার্মিজ লিপির পুথি
বাংলাদেশের পুথি সাহিত্য চর্চায় প্রথমত সাধন সংস্কৃতির নানা দিক প্রতিফলিত হয়েছে; চর্যাপদের পুথিতে তার উত্কৃষ্ট প্রমাণ লভ্য। দ্বিতীয়ত, সাধন সংস্কৃতির অভিব্যক্তি প্রকাশের নিমিত্তে ভৌগোলিক, সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক পরিচয়ের নানা দিকসহ লৌকিক জীবনের বিচিত্র অনুষঙ্গ পুথিকাব্যের অভ্যন্তরে গ্রন্থিত হয়েছে; ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন’, ‘ছয়ফুলমুলুক-বদিউজ্জামাল’, ‘গাজীকালু-চম্পাবতী’ প্রভৃতি পুথিকাব্যে এ ধরনের দৃষ্টান্ত লভ্য। তৃতীয়ত, লোকায়ত ধর্মচেতনা থেকে জাত পুথি ‘চণ্ডীমঙ্গল’, ‘সত্যনারায়ণ পাঁচালী’, ‘সত্যপীরের পাঁচালী’, ‘বনবিবি জহুরনামা’ প্রভৃতি। চতুর্থত, সমসাময়িক কালের বিভিন্ন ঘটনা, ইতিহাস, আন্দোলন, প্রাকৃতিক ও কৃত্রিম বিপর্যয়, লৌকিক প্রেমকাহিনি প্রভৃতি বিষয় পুথিকাব্যে স্থান পেয়েছে; এমনকি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে বহু পুথিকাব্য রচিত, প্রকাশিত ও পরিবেশিত হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধ-উত্তর বাংলাদেশের বিভিন্ন কালপর্বেও লৌকিক ও রাজনৈতিক জীবনের নানা অনুষঙ্গ নিয়ে পুথি রচিত ও প্রকাশিত হয়েছে।
একটি রহস্যময় ঐতিহ্যের অন্তঃপাঠপ্রাচীন ও মধ্যযুগে পুথিকাব্য পরিবেশনের বিভিন্ন ধরনের ঐতিহ্য ছিল। রাজদরবার থেকে শুরু করে প্রান্তিক মানুষের মধ্যে পুথিকাব্য পরিবেশনের এই ঐতিহ্য বিস্তৃত ছিল। অনেক ক্ষেত্রে রাজ পৃষ্ঠপোষকতায় পুথিকাব্য রচিত হয়েছে। আর রাজদরবারের অনুগ্রহে রচিত সেই পুথিকাব্যসমূহ বিস্তৃত হয়েছে প্রান্তিক মানুষের মধ্যে। এর প্রমাণ হিসেবে আলাওলের কাব্যভাণ্ডারের কথা উল্লেখ করা যায়। আরেকটি বিষয় উল্লেখ করতে হয়, পুথিকাব্য পরিবেশনের একটি শাস্ত্রীয় কাঠামোও অতীতে প্রচলিত ছিল, তা হলো পুথিকাব্যসমূহ বিভিন্ন রাগ-রাগিণীতে সুর-ছন্দসহযোগে উপস্থাপিত হতো। সেই শাস্ত্রীয় ধারা কালের করাল গ্রাসে লুপ্ত হলেও পুথিপাঠের বিচিত্র সুর-ছন্দের বেশ কিছু ঐতিহ্য বিচিত্র উপায়ে বাংলাদেশে রক্ষিত হয়েছে। এই ঐতিহ্যের মধ্যে বিভিন্ন ধর্মের শাস্ত্রীয় গ্রন্থ পাঠের ঐতিহ্য যেমন প্রত্যক্ষ করা যায়, তেমনি ধর্মনির্ভর লৌকিক আখ্যানের পরিবেশনরীতি হিসেবে পাঁচালি, পুথি, কাব্য প্রভৃতি পরিবেশনের ঐতিহ্যও প্রত্যক্ষ করা যায়। সাম্প্রতিক কালে স্যোশাল মিডিয়ার প্রসারে ইউটিউব, ফেসবুক প্রভৃতিতে প্রায়ই প্রবীণ ও নবীনদের পুথিকাব্য পাঠের ভিডিও প্রচারিত হতে দেখা যায়, যা দৃষ্টে বলা যায়, বাংলাদেশের পুথি সংস্কৃতির ঐতিহ্য রহস্যময় পথ পাড়ি দিয়ে বিচিত্র উপায়ে আজও চলমান।
No comments
Post a Comment